visva bharati guest houses rent

Visva bharati: বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে পৌষমেলায় ঘর বুকিং ও ভাড়া কত জানুন বিস্তারিত

পৌষমেলা মানেই শান্তিনিকেতন। বছরের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গের বুকে এমন এক উৎসব, যেখানে গান, শিল্প, হস্তশিল্প, সাহিত্য আর বাঙালিয়ানার এক অনন্য মিলন ঘটে। এই সময় শান্তিনিকেতন যেন শুধুই একটি জায়গা নয়, হয়ে ওঠে আবেগ, স্মৃতি আর সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। স্বাভাবিকভাবেই পৌষমেলার সময় শান্তিনিকেতনে থাকার জায়গা পাওয়া নিয়ে চিন্তায় থাকেন বহু পর্যটক ও দর্শনার্থী।

হোটেল, লজ, হোমস্টে ছাড়াও সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসগুলিতে থাকার বিষয়ে। কারণ বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউস মানেই নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, শান্ত পরিবেশ এবং তুলনামূলকভাবে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, পৌষমেলার সময় বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে ঘর কীভাবে বুক করবেন, ভাড়া কত, আদৌ সাধারণ মানুষের জন্য কি এই ঘর পাওয়া যায়?

এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানানো হল বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে পৌষমেলার সময় ঘর বুকিংয়ের নিয়ম, আনুমানিক ভাড়া, কোন গেস্ট হাউস কোথায় অবস্থিত এবং বুকিংয়ের আগে কী কী বিষয় জানা জরুরি।

পৌষমেলা ও শান্তিনিকেতনের বাড়তি ভিড়

প্রতি বছর পৌষ মাসের শুরুতেই শান্তিনিকেতনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পৌষ সংক্রান্তি, পৌষমেলা, রবীন্দ্রসংগীত, বাউল গান, হস্তশিল্পের দোকান, খোলা মাঠে উৎসব সব মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষ দেশ বিদেশ থেকে শান্তিনিকেতনে আসেন।

এই সময় সাধারণ হোটেল ও লজগুলির ভাড়া অনেকটাই বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আগাম বুকিং ছাড়া ঘর পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। ঠিক এখানেই বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউস নিয়ে কৌতূহল বাড়ে সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে।

বিশ্বভারতী গেস্ট হাউস কী এবং কারা থাকতে পারেন

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে। মূলত এগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রিত অতিথি, অধ্যাপক, গবেষক, সরকারি অতিথি ও পরীক্ষকেদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হয়।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সাধারণ মানুষও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই গেস্ট হাউসগুলিতে থাকার অনুমতি পেতে পারেন। বিশেষ করে যদি ঘর খালি থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজন না থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বুকিং সম্ভব হয়।

বিশ্বভারতীর প্রধান গেস্ট হাউসগুলির পরিচিতি

শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন মিলিয়ে বিশ্বভারতীর কয়েকটি পরিচিত গেস্ট হাউস রয়েছে।

উত্তরায়ণ গেস্ট হাউস
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ির কাছাকাছি অবস্থিত। পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত এবং ঐতিহ্যবাহী। পৌষমেলার মাঠ থেকে তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি।

রাতুল গেস্ট হাউস
শান্তিনিকেতনের ভেতরের দিকে অবস্থিত। গবেষক ও অধ্যাপকদের বেশি থাকার ব্যবস্থা থাকে এখানে।

নলিনী গেস্ট হাউস
বিশ্বভারতীর একটি পরিচিত গেস্ট হাউস। তুলনামূলকভাবে পুরনো হলেও পরিষ্কার ও নিরাপদ।

শ্রীনিকেতন গেস্ট হাউস
শান্তিনিকেতন থেকে কিছুটা দূরে শ্রীনিকেতন এলাকায় অবস্থিত। পৌষমেলার ভিড় এড়াতে চাইলে এটি ভালো বিকল্প।

পৌষমেলার সময় গেস্ট হাউস বুকিং কি সম্ভব

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পৌষমেলার সময় বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসগুলির চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকে। কারণ এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রোগ্রাম, অতিথি, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শান্তিনিকেতনে আসেন।

ফলে সাধারণ পর্যটকদের জন্য ঘর পাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বা বাতিল হওয়া বুকিংয়ের কারণে কিছু ঘর খালি থাকে। তবে তার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ এবং ধৈর্য প্রয়োজন।

বুকিং করার পদ্ধতি কী

বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউস বুকিং সাধারণত অনলাইন হোটেল বুকিংয়ের মতো সহজ নয়। এখানে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়।

প্রথমে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সাধারণত গেস্ট হাউস ম্যানেজার বা প্রশাসনিক অফিসে আবেদন করতে হয়।

একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিতে হয় যেখানে থাকার উদ্দেশ্য, সময়কাল, অতিথির সংখ্যা এবং পরিচয়পত্রের বিবরণ উল্লেখ করতে হয়।

কিছু ক্ষেত্রে পরিচিত অধ্যাপক, কর্মী বা বিভাগীয় রেফারেন্স থাকলে অনুমতি পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

অনুমোদন মিললে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাড়া জমা দিয়ে বুকিং নিশ্চিত করতে হয়।

পৌষমেলার সময় ঘরের ভাড়া কত হতে পারে

ভাড়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি থাকে। বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসের ভাড়া সাধারণ হোটেলের মতো বেশি নয়, কিন্তু পৌষমেলার সময় কিছুটা বাড়তি হতে পারে।

সাধারণভাবে এক একটি সাধারণ ঘরের ভাড়া দৈনিক আনুমানিক এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে থাকতে পারে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা বড় ঘরের ক্ষেত্রে ভাড়া আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।

ডাবল বেড বা ফ্যামিলি রুমের ভাড়া দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার কাছাকাছি যেতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করে কোন গেস্ট হাউস, ঘরের ধরন এবং কতদিন থাকার উপর।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ভাড়ার মধ্যে সাধারণত খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

খাবারের ব্যবস্থা কেমন

বিশ্বভারতীর বেশিরভাগ গেস্ট হাউসে স্থায়ী রেস্তোরাঁ থাকে না। কিছু গেস্ট হাউসে সীমিত ক্যান্টিন সুবিধা থাকলেও তা মূলত অতিথি ও কর্মীদের জন্য।

পৌষমেলার সময় বাইরে খাওয়ার বিকল্প প্রচুর থাকে। মেলার মাঠ, সোনাঝুরি, শান্তিনিকেতন বাজার এলাকায় নানা ধরনের খাবারের দোকান পাওয়া যায়। তবে যারা বয়স্ক বা পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে খাবারের পরিকল্পনা আগে থেকে করে নেওয়াই ভালো।

নিরাপত্তা ও পরিবেশ

বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নিরাপত্তা ও পরিবেশ। ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকার কারণে বাইরের ভিড়, শব্দ ও বিশৃঙ্খলা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার দিক থেকেও গেস্ট হাউসগুলি বেশ ভালো। রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা হয়, যা অনেক পর্যটকের কাছেই বড় স্বস্তির।

সাধারণ পর্যটকের জন্য বিকল্প কী হতে পারে

যদি বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে ঘর না পাওয়া যায়, তাহলে শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর বিকল্প রয়েছে।

বলপুর স্টেশন সংলগ্ন হোটেল ও লজ
সোনাঝুরি সংলগ্ন হোমস্টে
শান্তিনিকেতন রোডের ছোট অতিথিশালা
শ্রীনিকেতন এলাকায় তুলনামূলক কম ভাড়ার হোটেল

তবে পৌষমেলার সময় যেখানেই থাকুন না কেন, অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগে বুকিং করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বুকিংয়ের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গেস্ট হাউস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

কোনও দালাল বা অজানা সূত্রের মাধ্যমে বুকিংয়ের চেষ্টা করবেন না
আগাম টাকা দেওয়ার আগে লিখিত অনুমোদন নিশ্চিত করুন
ভাড়ার রসিদ বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র অবশ্যই সংগ্রহ করুন
ঘরের নিয়মাবলি আগে জেনে নিন

স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা কী বলছে

শান্তিনিকেতনের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে থাকা মানে একেবারে শান্তিনিকেতনের আত্মার মধ্যে থাকা। এখানে সকাল শুরু হয় পাখির ডাক দিয়ে, সন্ধ্যায় বাতাসে ভেসে আসে রবীন্দ্রসংগীত।

পৌষমেলার ভিড়ের মধ্যেও এই গেস্ট হাউসগুলি এক ধরনের প্রশান্তি দেয়, যা সাধারণ হোটেলে পাওয়া কঠিন।

উপসংহার

পৌষমেলা মানেই শুধুই মেলা দেখা নয়, এটি শান্তিনিকেতনের জীবনধারাকে কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ। আর সেই অভিজ্ঞতা যদি বিশ্বভারতীর গেস্ট হাউসে থেকে পাওয়া যায়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশেষ হয়ে ওঠে।

তবে বাস্তবতা হল, পৌষমেলার সময় এই গেস্ট হাউসগুলিতে ঘর পাওয়া কঠিন এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। আগাম পরিকল্পনা, সঠিক যোগাযোগ এবং ধৈর্য থাকলে সুযোগ মিলতে পারে।

শান্তিনিকেতন ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে শুধু থাকার জায়গা নয়, এই জায়গার সংস্কৃতি, শালীনতা ও ঐতিহ্যের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবেই পৌষমেলার আনন্দ সম্পূর্ণ হয়।

Know more news: Anant Ambani: কেন অনন্ত অম্বানি গ্লোবাল হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড পেলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *