Fifa World Cup 2026: তিন তারকার ম্যাজিকে উত্তেজনায় ভরপুর বিশ্বকাপ
মেসি, এমবাপে ও হালান্ড, একই দিনে বিশ্বকাপে খেলতে নামলেন তিন তারকা আর তিন জন্যেই গোল করে জয় ছিনিয়ে নিলেন। .. Fifa World Cup 2026
তিন তারকার পাঁচতারা পারফরম্যান্স: পাঁচ দিন আগে বিশ্বকাপের ঢাকে কাঠি পড়লেও এবার যেন বিশ্বকাপে সঠিক ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল। একই দিনে জ্বলে উঠলেন তিন তারকা। একদিকে এমবাপে, অন্য প্রান্তে হালান্ড আবার শেষে মেসি ম্যাজিক। তিন জন্যেই গোল করলেন এবং দলকে জিতিয়ে ফিরলেন। মেসির হ্যাটট্রিক আর হালান্ড এবং এমবাপের জোড়া গোল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপের প্রকৃত সূচনা একেই বলে।
আর্জেন্টিনা এবং মেসি
গতবার বিশ্বকাপ জিতে এইবার মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা আর এই বিশ্বকাপেও শুরুটা করল দুরন্ত। মেসির কথা আলাদা করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এলেন, দেখলেন জয় করলেন। মাঠে ছিলেন ৭৮ মিনিট আর সেই সময় পুরোটাই নিজের দখলে রাখলেন খেলা। তার মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে একাধিক রেকর্ড নিজের নামে করলেন এলএম ১০। মেসির খেলা এবং দলের মনোভাব থেকে স্পষ্ট যে তাঁরা এবারও খেতাব জেতার লক্ষ্যেই বিশ্বকাপ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন : FIFA world cup 2026: নতুন নিয়ম প্রয়োগে ফুটবল বিশ্বকাপে যুগান্তকারী ঘটনা!
প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে দুই দলের করা গোল অফসাইদের কারণে বাতিল করা হয়। তবে দুই দলই শুরু থেকে মাঝমাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টায় ছিল আর সেইদিক থেকে প্রথম দিকে বেশ কিছুক্ষণ সেই দখল নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা কিন্তু তারপর যখন নিল তখন থেকেই মাঠ জুড়ে মেসি ম্যাজিক আর আর্জেন্টিনার দাপট। দূর থেকে বাঁ পায়ের বুলেটের মত শট, দুরন্ত ড্রিবলিং, চোরা গতি সবই দেখা গেল মেসির পা থেকে।
শুরু থেকেই জানা ছিল আলজেরিয়ার কোচ মেসিকে মার্ক করবেন, কিন্তু না! সেই পথে তিনি হাঁটলেন না। কেন হাঁটলেন না সেই অজ্ঞাত কারণ বুঝতে বৈঠকও ডাকতে পারে টম ম্যানেজমেন্ট, তবে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। ২৫ গজ দূর থেকেও বল পেয়ে সেই বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি মেসি। এই ম্যাচেই অভিষেক হল জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান কিন্তু বেচারার প্রথম ম্যাচই ছিল ফুটবল রাজপুত্রের সামনে। অজ্ঞতা মেসির গোল তাঁকে হজম করতে হল।
আরও পড়ুন : Lamine Yamal: ইয়ামালকে নিয়ে সংশয় প্রথম ম্যাচের আগে
প্রথম গোলের পর বদলে দেয় আর্জেন্টিনার খেলা। এরপরেই আর্জেন্টিনার খেলা ধরে নেয় আলাদা গতি। বোঝা গেল, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ মাঠের বাইরে রেখে যুদ্ধে নেমেছেন। খেলা উপভোগ করছেন। বেশিক্ষণ পায়ে বল রাখছিলেন না আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা, নিখুঁত ছোট ছোট পাসে খেলা তৈরি করছিলেন এবং গোটা মাঠ জুড়ে সেই খেলা ডিস্ট্রিবিউট হয়ে যাচ্ছিল। ওয়ান টাচ ফুটবল খেলছিলেন তাঁরা। বল পেলে সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থকে দিয়ে দিচ্ছিলেন। তাতে খেলার গতি বাড়ছিল। প্রতিপক্ষ সুযোগ পাচ্ছিল না বলের দখল নেওয়ার এবং খেলা বোঝার। ম্যাচ শেষ হয় ৩-০ আর এই তিনটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে।
মেসি অবগত ছিলেন নিজের বয়স সম্পর্কে আর সেই কারণেই দক্ষতার সঙ্গে বুদ্ধিও কাজে লাগিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এক জায়গায় থাকছিলেন না মেসি। কখনও নীচে নেমে খেলা তৈরি করছিলেন আবার কখনও উপরে উঠছিলেন আর এর ফলে বিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফাঁকা জায়গায় থাকছিলেন মেসি আর তাতে সতীর্থদের সুবিধা হচ্ছিল মেসিকে খুঁজে নিতে। ম্যাচ শেষ হয় ৩-০ আর এই তিনটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে।
গোল করার পরেই মেসিকে তুলে নেন স্কালোনি। যে কাজের জন্য তাঁকে শুরু থেকে নামানো হয়েছিল, তা করে ফেলেছিলেন তিনি। তাই মেসিকে নিয়ে আর ঝুঁকি নেননি স্কালোনি। বেঞ্চে বসে বাকি খেলা দেখলেন মেসি। দেখলেন তাঁর দল সহজে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল। প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনা বুঝিয়ে দিল, চ্যাম্পিয়ন হতে নেমেছে তারা। প্রথম ম্যাচেই মেসি বুঝিয়ে দিলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে নেমেছেন তিনি।
এমবাপের জোড়া গোল এবং ফ্রান্সের জয়
এই মুহূর্তে জিনেদিন জিদান সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তিটির নাম। একদিকে তাঁর ছেলে অভিষেক ম্যাচে হজম করলেন তিনটি গোল। যে অভিষেক বাবা এবং ছেলে দুজনেই ভুলতে চাইবেন আর অন্যদিকে তাঁর সময়ে ফ্রান্স হেরেছিল সেনেগালের কাছে আর আজ ফ্রান্স দাপটের সঙ্গে জিতে নিল সেনেগালের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে যতটা কৃতিত্ব এমবাপের ঠিক ততটাই কৃতিত্ব দলের কোচ দিদিয়ের দেশঁ-র। এবার ২৪ বছরের পুরনো বদলা নিল ফ্রান্স। সেনেগালকে ৩-১ হারিয়ে নিজেদের এতদিনের হারের জ্বালা জুড়ালো ফ্রান্স।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হচ্ছিল ফ্রান্স ও সেনেগাল। আগের বারের স্মৃতি ফ্রান্সের জন্য সুখকর ছিল না। পাপা বৌবা দিওফের নাম জিদান অন্তত কোনও দিন ভুলবেন না বা বলা ভাল ভুলতে পারবেন না। সেই দলেরই সদস্য পাপে থিয়াও এখন সেনেগালের কোচ। তিনি জানতে ফ্রান্সের সব আক্রমণের লক্ষ্য থাকবেন এমবাপে। তাই নিজের রক্ষণ সে ভাবেই সাজিয়েছিলেন তিনি। এমবাপের সঙ্গে জোঁকের মতো লেগেছিলেন কৌলিবালি কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল। ব্যস, প্রথমার্ধে সেখানেই ঢাকা পড়ে গেলেন এমবাপে।
এখানে আবার লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন ইতিহাস। ৩০০ বছর সেনেগাল শাসন করেছে ফ্রান্স। সেখানে একসময় আফ্রিকার এই দেশের যে স্বাধীনতার যুদ্ধ বিশ্ব দেখেছিল সেই যুদ্ধই যেন দেখা গেল ফুটবল ময়দানে। প্রথম অর্ধে ফ্রান্স কিছুটা ফিকে হলেও দ্বিতীয় হাফে ফ্রান্সকে আর থামানো সম্ভব হয়নি। গোটা ম্যাচ দাপিয়ে বেড়াল এমবাপে। সেনেগাল কোচ আগের জয়ের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভেবেছিলেন এই ম্যাচ বাজিমাত করবেন কিন্তু সেটা হল না। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর হল না।
প্রথমার্ধে খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ বার বল পেয়েছেন এমবাপে। তা-ও রাখতে পারেননি। প্রথম টাচ দেখে মনে হচ্ছিল, এমবাপের জায়গায় অন্য কেউ খেলছেন। যেটুকু খেললেন, মাইকেল ওলিসে। এ বার বালঁ দ্যরের দাবিদার তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলের বন্যা বইয়েছেন। কিন্তু তিনি একাই খেললে কী হবে, বাকিদেরও তো সঙ্গ দিতে হবে। তবে এরপরের খেলা পুরো পাল্টে যায় সেই কথায় পরে আসছি।
এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল এই ম্যাচ। সেনেগালের ১০ জনের জন্মই হয়েছে ফ্রান্সে। সেক্ষত্রে ভাষা গত একটা সমস্যা ছিল কারণ সেনেগাল নিজেদের মধ্যে কথা বললেই সেটা ফ্রান্স সহজেই বুঝে ফেলত। সেকারণে তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য এক অদ্ভুত ভাষা বের করছিল। ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেম্বেলের মতো কয়েক জন সেই ভাষা জানলেও বাকিরা জানেন না। তাই ধরতে পারছিলেন না। প্রথমার্ধে সুযোগ পেয়ে দুবার গোল করতে ব্যর্থ হয় সেনেগাল আর সেই খেসারত ম্যাচ হেরে দিতে হল তাঁদের।
আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) ২০২৬ – ‘সবার জন্য ঘর’
বিরতিতে একটিই বদল করেন দেশঁ। প্রথমার্ধে দলের নম্বর ১০ পজিশনে খেলছিলেন এমবাপে। ফলে তাঁকে বল দিতে হলে সেন্টার অফ দ্য পার্ক দিয়ে খেলতে হচ্ছিল। সেই কারণে এমবাপে বল পেলেই কৌলিবালি তাঁকে আটকে দিচ্ছিলেন। দ্রুত তিন থেকে চার জন ঘিরে ধরছিলেন ফরাসি ফুটবলারদের। ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিলেন না তাঁরা। দেশঁ এমবাপেকে প্রান্তে আনলেন। কখনও ডান, কখনও বাঁ প্রান্ত থেকে উঠলেন তিনি। নম্বর ১০ পজিশনে নিয়ে গেলেন ওলিসেকে। প্রথমার্ধে এমবাপেকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন সেনেগালের সেন্টার ব্যাক কৌলিবালি। কিন্তু এমবাপে প্রান্তে চলে যাওয়ায় কৌলিবালির নাগপাশ থেকে মুক্ত হলেন ফ্রান্সের এই তারকা আর তাতেই বাজিমাত। ওলিসের গতি কৌলিবালিকে সমস্যায় ফেলল। এই এক চালেই খেলার ছবি বদলে গেল। এই মাস্টার স্ট্রোকেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ফ্রান্স।
বিশ্বকাপ অভিষেকে হালান্ডের জোড়া গোল
প্রথম বার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই নিজের জাত এবং চেনালেন হালান্ড। বিশ্বকাপের আগে থেকেই যে কজন তারকাকে নিয়ে চর্চা চলছিল তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর গোলেই বিশ্বকাপের শুরু হল নরওয়ের। ২৯ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করেন হালান্ড। ৩৯ মিনিটে আইমেন হুসেনের গোলে ইরাক সমতা ফেরালেও চার মিনিট পরে দ্বিতীয় গোল করে আবার নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৬ মিনিটের মাথায় লিয়ো ওস্টিগার্ড ও সংযুক্তি সময়ে ইরাকের গোলদাতা হুসেনের আত্মঘাতী গোলে ৪-১ জেতে ইরাক। এই জয় আত্মবিশ্বাস জোগাবে নরওয়েকে। তবে এই জয়ে হালান্ডের পাশাপাশিই ভূমিকা রেখেছেন দলের বাকি প্লেয়াররা।
হ্যালো! আমি Samapti, একজন ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট নির্মাতা এবং ডিজিটাল স্টোরিটেলার। আমি আইডিয়াগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি, যাতে কেবল তথ্যপূর্ণ নয়, পাঠকের জন্য আকর্ষণীয় এবং সহজে বোধ্যও হয়।
